Pages

Showing posts with label Review. Show all posts
Showing posts with label Review. Show all posts

Wednesday, 10 October 2018

Book Review


রিভিউঃ১

 বইয়ের নামঃ যদ্যপি আমার গুরু 

লেখকঃ আহমদ ছফা
পড়ার কাজটি অইল অন্যরকম। আপনে যখন মনে করলেন, কোনো বই পইড়্যা ফেলাইলেন, নিজেরে জিগাইবেন যে বইটা পড়ছেন, নিজের ভাষায় বইটা আবার লিখতে পারবেন কিনা। আপনের ভাষার জোর লেখকের মতো শক্তিশালী না অইতে পারে, আপনের শব্দভান্ডার সামান্য অইতে পারে, তথাপি যদি মনে মনে আসল জিনিসটা রিপ্রোডিউস না করবার পারেন, ধইর‍্যা নিবেন , আপনের পড়া অয় নাই।............... আব্দুর রাজ্জাক স্যার
আসলে সহজ কথায়  যদ্যপি আমার গুরু” বইয়ের সারাংশ উপরের লাইন কয়টির মধ্যে নিহিত।আহমদ ছফার সাথে আব্দুর রাজ্জাক স্যারের পরিচয় হয়েছিল বাংলা একাডেমীর বৃত্তিতে আহমদ ছফার “The growth of middle class in Bengal as it influenced its literature, society and economics from Eighteenth to Eighteen Fifty Eight”(অসমাপ্ত) টপিকের থিসিসে আনুফিসিয়াল সুপারভাইজার হিসেবে । তরুণ ছফা যখন বুঝতে পারছিলেননা কিভাবে শুরু করবেন তখন স্যার শব্দ করে হেসে তাঁর পিএইচডি সুপারভাইজার হ্যারল্ড লাস্কির কাছ থেকে একই প্রশ্নের যে উত্তর পেয়েছিলেন তাই বললেন। লাইব্রেরি দেখিয়ে দিয়ে লাস্কি বলেছিলেন, “My boy, go and soak!”আর এই সোককরার মানে হল,প্রথম লাইব্রেরিতে ঢুইক্যাই আপনার টপিকের কাছাকাছি যে যে বই পাওন যায় পয়লা একচোটে পইড়া ফেলাইবেন। তারপর একটা সময় আইব আপনে নিজেই পাইবেন আপনের আগাইবার পথ। অবশ্য এই পথ খোঁজাই আহমদ ছফার পিএইচডি শেষ করতে না পারার কালহয়েছিল ।   
ছফা আবদুর রাজ্জাকের সান্নিধ্যে ছিলেন প্রায় সাতাশ বছর। সুদীর্ঘ একটা সময়। সম্পর্কে ছাত্র-শিক্ষক হলেও মনে হয়নি তাদের সম্পর্কটায় আদৌ কোন ফর্ম্যালিটি ছিল। এত দীর্ঘ সময় ধরে কাউকে গুনমুদ্ধ করে রাখা কিন্তু খুব কঠিন ব্যাপার। কিন্তু আবদুর রাজ্জাক পেরেছিলেন, শুধু ছফা নয়, সমসাময়িক অনেক প্রতিভাবানেরাই তাকে গুরুর আসনে আসীন করেছেন। এই মানুষটিকে বিশ্বকোষ বললে বাড়িয়ে বলা হয় না, জ্ঞানের শাখায় শাখায় তার অবাধ বিচরণ। ছাত্রের মনের জানালা খুলে দেয়া শিক্ষক বুঝে এমন কাউকেই বলে। অথচ বিস্তর পড়াশোনা, অগাধ জ্ঞানী এই মানুষটি কখনও নিজে কিছু লেখেননি । আবদুর রাজ্জাক স্যার কেন লেখেননি এই ব্যাপারে ছফা ব্যাখা দিয়েছেন এভাবে, এই মানুষটি তার সমকালীনদের গন্ডি পেরিয়ে এতখানিই উপরে উঠেছিলেন যে তাদের কাতারে নেমে আসা হয়ত একটু মুশকিল হত তাঁর জন্য। আবদুর রাজ্জাক স্যারকে সমালোচনাও কিন্তু তাকে কম শুনতে হয়নি। তৎকালীন বহু বিখ্যাত ও বিশ্বনন্দিত ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে ভাল মন্দ নানা প্রসংগে। উজ্জল একটি নক্ষত্রের মত এই মানুষটির ব্যক্তিজীবন ছিল খুব অদ্ভূত। খাঁটি ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলতেন, কাপড়-চোপড়ের নেই কোন আড়ম্বর, খেতেও ভালবাসেন যা কিছু বাঙালী। অথচ তিনি কতটা বিশ্বজনীন প্রখর দৃষ্টির অধিকারী এই ব্যাপারে ছফা মন্তব্য করেছেন, “নিজেস্ব সামাজিক অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে এবং নিজের সামাজিক পরিচিতির আদি বৈশিষ্ট্যসমূহ গৌরবের সাথে ধারণ করে একটি বিশ্বদৃষ্টির অধিকারী হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়।
বইটি অসংখ্য রেফারেন্স পেতে পারি । ইতিহাস, ধর্ম, অর্থনীতি, রাজনীতি, সাহিত্য এত এত বিষয় দুজনের আলাপচারিতায় উঠে এসেছে যে কেউ যদি এসব বিষয়ে আরও পড়াশোনা করতে চান তাহলে রেফারেন্স হিসাবে কি পড়বেন আমাদের আলোচ্য গুরুর কাছ থেকে তা ভালই জেনে নিতে পারবেন। বাংলার সুলতান থেকে শুরু করে জিন্নাহ, বঙ্কিম থেকে শুরু করে টলস্টয়, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে বিথোভেনের মুনলিট সোনাটা, মার্ক্স-এঙ্গেলস থেকে অ্যাডাম স্মিথ, ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র কিংবা সেক্যুলারিজম সবই তাদের আলোচনায় একে একে উঠে এসেছে। এমন নয় যে আপনি এসব সম্পর্কে বিস্তর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পাবেন এ বইয়ে, কিন্তু জ্ঞানের নানা শাখার সূত্র ধরিয়ে দিতে অবশ্যই সক্ষম হবে বলে আশা রাখছি।
এমনভাবেই তিনি মানুষের সাথে কথা বলতেন, কি বেঙ্গল সমাজের নেচার, কি হেনরি কিসিঞ্জার, শেখ মুজিব বা মাওলানা ভাসানীর নেচার- সকল বিষয়ে তার এরকম খুব সূক্ষ্ণ ও সংক্ষিপ্ত মতামত ছিল যা যেকোন যৌক্তিক মানুষকে ভাবাত উত্তর দেয়ার আগে। এই “naïve, simple, precise and straight forward” ব্যাপারটা বিশেষভাবে আকর্ষণীয় । জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে চলমান বিশ্বকোষ বললে খুব একটা অত্যুক্তি করা হয় না।জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে চলমান বিশ্বকোষ বললে খুব একটা অত্যুক্তি করা হয় না।বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপীঠসমূহের শ্রেষ্ঠ মনিষীদের অনেকেই একবাক্যে তাঁর মেধা এবং ধীশক্তির অনন্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন। এই মানুষটি তাঁর মেধা এবং মননশক্তি দিয়ে জাতীয় জীবনের সন্ধিক্ষণ এবং সংকটময় মুহূর্তসময়ে পথনির্দেশ করেছেন। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, বলতে গেলে, চারটি দশক ধরেই তরুন বিদ্যার্থীদের এই নিভৃতচারী, অনাড়ম্বর জ্ঞানসাধক মানুষটি সারা জীবন কোনো বই রচনা করেননি। সভা-সমিতিতে কথাবার্তা বলারও বিশেষ অভ্যাস তাঁর নেই। তথাপি কৃশকায়, অকৃতদার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।
সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক একজন প্রবাদতুল্য পুরুষ । কিন্তু তাঁর জ্ঞানচর্চার পরিধি কতদূর বিস্তৃত, আর তিনি ব্যক্তি মানুষটি কেমন সে বিষয়েও মুষ্টিমেয় ক'জনের বাইরে খুব বেশি মানুষের সম্যক ধারণা নেই। যদ্যপি আমার গুরু বইটি পাঠক-সাধারণের মনে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মনীষা এবং মানুষ আবদুর রাজ্জাক সম্পর্কে একটি ধারণা গঠন করতে অনেকখানি সাহায্য করবে।

০৬/১০/২০১৮
বিজয় একাত্তর হল,ঢাঃবিঃ







Child Labor


Stop child labor


Children are the key of future development nurturing in appropriate environment and ensuring their rights is our responsibility. But child labor is  increasing alarmingly day by day. According to UNESCO, in Bangladesh, 40 percent of total population is children. Among them 20 percent is engaged   in child labor. It is matter of great regret that , now the canteens ,departmental stores of University of Dhaka are full of child laborers .They are below 14/16. There also 9-10 aged child. But no one is concern about this. Instead of going school they are washing plate whole the day. They are fully deprived from their basic need ‘Education’. Instead of slapping with affection of mother they have to sleep on the floor of canteen. They are deprived from their parent’s love. They have no chance to take rest in the whole day let along recreation.Sadly   they are actually deprived from all basic needs. Authority should think about them.

Jashim Uddin
department of sociology, University of Dhaka.

Published:7 oct. 2018
The Daily Sun

Plight of Aged People


প্রবীণদের পাশে থাকুন


চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি পাচ্ছে ।তাই সমাযের ব্যবধানে প্রবীণের সংখ্যাও বাড়ছে। বার্ধক্য জীবনের অনিবার্য একটি ধাপ । যা কারো পক্ষে জয় করা সম্ভব নয়।এ সময় তারা কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলে। যাদের বয়স ৬৫ বছরের উপরে তাদেরকেআমরা প্রবীণ বলি। আসলে তারা আমাদের অগ্রজ।এ প্রবীণদের সান্নিধ্যেই বেড়ে ওঠে পরবর্তী প্রজন্ম।তাই  আদিকাল থেকে তারা শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ স্থান দখল করে আছে ।কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল বর্তমানে প্রবীনরা সমাজের আবহেলার পাত্র হয়ে দাড়িয়েছে ।সারা জীবন কষ্ট করেও বৃদ্ধ বয়সে এসে তাদের কপালে সুখ জোটে না।খুব আসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করে তারা ।প্রথমত তারা ভাবের আদান প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে। বিশ্বায়নের যুগে কালচার খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে ।তাই তারা এ পরিবর্তিত কালচারের সাথে মানিয়ে উঠতে পারছে না । ফলে তাদের সামাজিক যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে।
 বর্তমান শিল্পায়নের ফলে পারিবারিক কাঠামো পরিবর্তন হয়ে হচ্ছে। অর্থাৎ যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমে একজক পরিবারে সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে প্রবীনরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
সন্তান কর্তৃক পিতা মাতার ভরণ পোষণ নিশ্চিত করতে “পিতা-মাতা ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩” প্রনয়াণ করা হলেও সন্তানরা তাদের পিতা মাতার প্রতি উদাসীন ।করণ শিল্পায়নের ফলে মানুষের মনজগতে বড়ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয়রছে । পূর্বে মানুষ ভাবত, “আমি পরিবারের জন্য”। কিন্তু বর্তমানে তারা ভাবে, “পরিবার আমার জন্য”। তাই প্রবীনদের যত্ন নেয়ার বিষয়টি অতি তুচ্ছ।
এ হল বর্তজমান পরিস্থিতি । ভবিষতের চিত্র আরো ভয়াবহ ।পরিংখ্যান অনুযায়ী আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে প্রবীনের সংখ্যাআ হবে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ। ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি এবং ২০৬১ সালে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি প্রবীন জনগোষ্ঠী হবে। যা ঐ সমায়ের জ্জন্সংখ্যার ২০ শতাংশ। সে পরস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। 
আশার কথা হল, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট বা জন্সংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধা ভোগ করছে।অর্থাৎ বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৪ বয়সী জন্সংখ্যা বেশি( ৬৬ শতাংশ)। তাই এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে জন সম্পদে পরিণত করতে পারলে প্রবীন্দের ভাল রাখা সভব হবে। তাই প্রবীণদের সুখে রাখতে তরুণদেরকেই কাজে লাগাতে হবে।
প্রবীণদের প্রতি অবহেলার আরো একাটি বড় কারণ হল এ সময় প্রবীণরা বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত থাকে।অনেকসন্তান বা আত্নীয়দের জন্য চিকিৎসা ব্যয় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রবীন্দের চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাস্ট্রীয় সাহায্য প্রয়োজোন।আবার কল্যানমূলক ব্যবস্থাদি,উন্নত বৃদ্ধাশ্রম আর বয়স্ক ভাতাই যথেষ্ঠ নয় কারণ এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ,৮৮ ভাগ প্রবীণ মান্সিক নির্যাতনের শিকার হন। এছাড়া ৪৪ ভাগ অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার এবং ৩৯ ভাগ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। তাই এ দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকা আমাদের মানবিক দায়িত্ব।এটা তাদের প্রতি করুণা নয় তাদের অধিকার।


 দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় প্রকাশিত
০৭ অক্টোবর ২০১৮